জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নামে পৃথক হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। তিনি বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা গতকালও (মঙ্গলবার) আমাকে ডেকেছেন। তিনি আমাকে বলে;ছেন ঈদের আগেই অধ্যাদেশ হয়ে যাবে। আর জুলাই থেকে এটি কার্যকর হবে। যত দ্রুত সম্ভব এটা অপারেশনাল করবে। আমরা সেদিকেই এগোচ্ছি। শুরুটা করতে হবে, বিবাদ যা থাকবে সে জায়গাটা আমরা পরে অ্যাড্রেস করব।’
রাজধানীর এনবিআর ভবনে গতকাল ‘আয়কর আইন, ২০২৩: সংস্কার ও প্রেক্ষিত’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বিসিএস ট্যাক্সেশন অ্যাসোসিয়েশন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘নতুন দুটি বিভাগে কিছু বাইরের এক্সপার্টও থাকবে, বিশেষ করে ইকোনমিক, ফাইন্যান্স ও রিসার্চ থেকে কিছু লোক থাকবে। রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় যারা অভিজ্ঞ তারাই মূলত এ কাজগুলো করবেন। এর সঙ্গে অক্সিলিয়ারি ফোর্স হিসেবে অন্যরা থাকবেন। আমরা নৈর্ব্যক্তিকভাবে কোনো কিছু না দেখে আইনে যা আছে, তা-ই প্রয়োগ করতে পারব। আরো বেশি সময় দিতে পারব। যেসব টিআইএনধারী রিটার্ন দাখিল করেন না, তাদেরকে নিয়েও এখন কাজ করতে পারব। বিআইএনধারীদের নিয়েও কাজ করা যাবে।’
মো. আবদুর রহমান খান বলেন, ‘আমাদের ওপর রাজস্ব সংগ্রহের বড় চাপ থাকত, সেটি আমরা পলিসির ওপর ভর করে আদায়ের চেষ্টা করতাম। এতে রাষ্ট্রের বড় ক্ষতি হয়ে গেছে। বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে ইনকনসিস্ট্যান্স বড় যন্ত্রণা। এজন্য অনেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। আমাদের এখানে সুশাসনের অভাব। অনেক আইন আছে, প্রয়োগে শৈথিল্য। আইনের শাসন একেবারে অনুপস্থিত। করজাল ছোট এটাও সঠিক নয়। কর কম দেয় এটাও ঠিক নয়।’
আলোচনায় অংশ নিয়ে কর অঞ্চল-৬-এর কর কমিশনার ইকতিয়ার উদ্দিন মো. মামুন বলেন, ‘উৎসে করহার যৌক্তিক করার পাশাপাশি সরকারি ব্যয় প্রাক্কলন ও দরপত্রের মূল্য ঘোষণা পদ্ধতির সংস্কার প্রয়োজন। সুনির্দিষ্টভাবে সরকারি ব্যয় প্রাক্কলনে উৎসে কর কোনোভাবেই ব্যয়ের অন্তর্ভুক্ত থাকবে না। একইভাবে কোনো দরপত্রদাতা তার দাখিল করা দরে উৎসে কর অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন না। প্রমিত নিট আয় হার ১০ শতাংশ এবং আয়কর হার ২৫ শতাংশের জন্য উৎসে করের আদর্শ হার ২ দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে। এসব সংস্কারের বিষয়ে কাজ চলমান রয়েছে।’
এ বিষয়ে বিশেষ অতিথি এনবিআর সদস্য (কর প্রশাসন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) জিএম আবুল কালাম কায়কোবাদ বলেন, ‘উৎসে করের হার নির্দিষ্ট হওয়ার সুযোগ নেই। এজন্য খাতভেদে এ হার বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কর অঞ্চল ২-এর কমিশনার ও বিসিএস ট্যাক্সেশন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের মহাসচিব ও কর পরিদর্শন পরিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ মহিদুল হাসান। অনুষ্ঠানে এনবিআরের সদস্য ও কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, কর ব্যবস্থায় দক্ষতা ও স্বচ্ছতা বাড়াতে বিশ্বের অনেক দেশই কর নীতি ও কর সংগ্রহ কার্যক্রমকে পৃথক করার পথে হেঁটেছে। বাংলাদেশে এ উদ্যোগ শুরু হয়েছিল ২০০৭-০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে। যদিও পরে তা আর আলোর মুখ দেখেনি। দায়িত্ব গ্রহণের পর বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারও রাজস্ব কার্যক্রম সংস্কারের আওতায় কর নীতি ও কর সংগ্রহ কার্যক্রমকে পৃথক করার উদ্যোগ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের মতো বহুজাতিক দাতা সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকেও এটি বাস্তবায়নের জন্য চাপ রয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নামে দুটি স্বতন্ত্র বিভাগ গঠনের প্রস্তাব সংবলিত একটি অধ্যাদেশের খসড়া প্রণয়ন করেছে সরকার।